হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, শ্রম আইন কার্যকর, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিত করা এবং বকেয়া মজুরিসহ ঈদ উৎসবের পূর্ণ বোনাস প্রদানের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ-এর উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ-এর আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান ও সঞ্চালনা করেন যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশনে প্রচার সম্পাদক আতিকুল ইসলাম টিটু, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম তাজু, হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ-এর অন্যতম সদস্য মোঃ আঃ কুদ্দুস রাজু, বাবুল হোসেন, ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম খান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক কর্মপরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অত্যন্ত স্বল্প মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার এই খাতের জন্য নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করলেও অধিকাংশ মালিক তা বাস্তবায়ন করছেন না। অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করা হয় না, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর করা হয় না এবং শ্রম আইনও প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ফলে এই খাতের শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে বহু শ্রমিক এখনও তাদের ন্যায্য বকেয়া মজুরি পাননি এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে ঈদ বোনাস দেওয়ার বিষয়েও মালিকপক্ষ নানা অজুহাতে গড়িমসি করছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং ঈদ উৎসব উপলক্ষে পূর্ণ বোনাস প্রদানের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সা¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর সংঘাত বিশ্বযুদ্ধের বিপদসহ নতুন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। অতীতে যেমন বিভিন্ন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে, তেমনি নতুন কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও তার বোঝা শেষ পর্যন্ত শ্রমজীবী মানুষের উপরই চাপানো হবে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে কোনোভাবেই সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের ক্ষেত্র বা যুদ্ধ জোটের অংশ বানানোর ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।
সমাবেশ থেকে বক্তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান যে, হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট দ্রুত বাস্তবায়ন, সকল শ্রমিককে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা। সমাবেশে সভাপতি তার সমাপনি বক্তব্যে নি¤েœ উল্লেখিত কর্মসূচি ঘোষণা করেন-
ক) ৬ মার্চ ২০২৬ নিউমার্কেট থানা, সন্ধ্যা ৭টায়, স্থান: বাটা সিগন্যাল, খ) ৭ মার্চ ২০২৬ কোতয়ালী সূত্রাপুর থানা, সন্ধ্যা ৭টায়, স্থান: বাহাদুরশাহ পার্কের সামনে, গ) ৮ মার্চ ২০২৬, সবুজবাগ (দক্ষিণ বনশ্রী), সন্ধ্যা ৭টায়, স্থান: আল মাদানী হোটেলের সামনে, ঘ) ৯ মার্চ ২০২৬ যাত্রাবাড়ী থানা, সন্ধ্যা ৭টায়, স্থান ঢাকা হোটেলের পাশে, ঙ) ১০ মার্চ ২০২৬ ধানমন্ডি থানা, সন্ধ্যা ৭টায়, স্থান- চ) ১১ মার্চ ২০২৬, মতিঝিল থানা, সন্ধ্যা ৭টায়, স্থান: মারলিন হোটেলের সামনে, ছ) ওয়ারী থানা ১২ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টায়, স্থান: জয়কালী মন্দিরের পাশে ফ্লাইওভারের নীচে, জ) ১৩ই মার্চ ২০২৬, বংশাল, সন্ধ্যা ৭টায়, স্থান: ফায়ার সার্ভিসের সামনে, ঝ) ১৪ মার্চ ২০২৬, তেজগাঁও, সন্ধ্যা ৭টায়, এছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে কর্মসূচি পালন হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি