• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন

বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমের স্মৃতিচারণ

রিপোর্টার নাম: / ৮ জন দেখেছে
আপডেট: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম একটি প্রেরণার নাম, ভালোবাসার নাম ও স্বাধীকারের নাম। আমাদের প্রত্যাশিত স্বাধীনতা এমনি এমনি আমাদের দড়জায় হাজির হয়নি। এর জন্য দিতে হয়েছে অনেক রক্ত ও ত্যাগ। তবে স্বাধীনতার আকাঙ্খা একদিনে জন্ম হয়নি। বৃটিশ-ভারত শাসনামল থেকেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়, এদেশের মাঠে প্রান্তরে। তাই স্বাধীনতা যুদ্ধ ও তার স্মৃতির কথা বলতে হলে এর পূর্বের ইতিহাস না জানলেই নয়। সালটা ১৯৪৭, ভারত বিভাজনের আগে পূর্ব, উত্তর ও পশ্চিম ভারতের মুসলিম-প্রধান অঞ্চল নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রস্তাব আনা হয়। বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্তবঙ্গ গঠনের প্রস্তাব দিলেও ঔপনিবেশিক শাসকেরা তা নাকচ করে দেয়। পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি পূর্ব ভারতে আলাদা সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রস্তাব করে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও বহু রাজনৈতিক আলোচনার পর ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে ব্রিটিশরা ভারতের শাসনভার ত্যাগ করে। এর পর হিন্দু ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে যথাক্রমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম অধ্যুষিত বাংলার পূর্ব অংশ পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম অংশ পশ্চিম পাকিস্তান নামে নামকরণ হয়।

পাকিস্তানের দুই অংশের জনসংখ্যা প্রায় সমান হওয়া সত্তে¡ও, রাজনৈতিক ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মাতে থাকে যে, অর্থনৈতিকভাবে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং এরকম বিভিন্ন কারণে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও, পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী তা মেনে নেয়নি। এর ফলস্বরূপ পূর্ব পাকিস্তানে সৃষ্ট রাজনৈতিক অসন্তোষ ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ অবদমনে পশ্চিম পাকিস্তাানি শাসকেরা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ শে মার্চ রাতে নৃশংস গণহত্যা শুরু করে। ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর পর থেকেই দেশব্যাপী স্বাধীনতার সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে বাংলার আনাচে-কানাচে।
মুক্তিযুদ্ধের একজন অগ্রনায়ক, অকুতোভয় সৈনিক, দেশমাতৃকার টানে যিনি শত্রু পক্ষের প্রলোভনের বেড়াজাল ভেদ করে দেশ রক্ষার দায়িত্ব কাঁদে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে চলে এসেছেন সে রকম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ আজ পাঠকের কাছে উপস্থাপন করছি।

যাদের বিরত্বের কারণে দেশ স্বাধীন হয়েছে, পেয়েছি একটি লালসবুজের পতাকা তাদেরই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বদিউল আলম, পিতা-অব্দুল জলিল মোল্লা, মাতা-রওশন আরা বেগম, সলিয়াবাকপুর, বানারীপাড়া, জেলা বরিশাল। বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-২৬৫১, পৃষ্ঠা-৪২০১,তারিখ-২১.০৫.২০০৫ ইং, সিরিয়াল নং-২৬৫১।

মো. বদিউল আলম সলিয়াবাকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পরে চাখার স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন ক্রুজার বাবর করাচিতে। বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলম স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ১৯৬৯ সালের দিকে পুর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে পাকিস্তানীরা করছে তালবাহানা। এ সময় আমরা যারা বাঙালী পাকিস্তানে চাকরি করছিলাম তখন সবাই ভাবছিলাম পাকিস্তানীদের সাথে আমাদের আর থাকা হবে না। তাদের নির্যাতন, শোষণ, অবিচার ও স্বার্থপরতা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ১৯৬৮ সালের আগেই আমরা অনেকেই তখন পাকিস্তান ছেড়ে চলে আসতে চেয়েছিলাম। নানা জটিলতা কাটিয়ে এক পর্যায় আমি আমার পরিবারিক কারণ দেখিয়ে ’৬৯ সলের ফেব্রæয়ারি মাসে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসি এবং খুলনায় নৌবাহিনীর একটি গানবোর্ডে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আবারো কাজ শুরু করি। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেন তখন আমরা তার স্বাধীনতা ঘোষণা বিষয়ক ভাষণটি শুনছিলাম এবং সবাই ভাবছিলাম আজই স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হতে পারে! ভাষণের সময় আমি পাকিস্তান নৌবাহিনী খুলনায় একটি গানবোর্ডে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। এ গানবোর্ডে আমরা বাঙালি নৌ সেনাই বেশি ছিলাম, পাক সেনা ছিলো কয়েকজনমাত্র। বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের পর আমাদের সাথে যেসব পাক সেনারা কাজ করছিলো তারা ভয় পেয়েছিলো। আমরা ও পাকিরা ভাবছিলাম দেশে আজই যুদ্ধ লেগে যাবে। সত্যি সত্যি যুদ্ধ লাগলে আমরা ফায়ার করব এবং গানবোর্ড নিয়ে চলে যাবো এ সিদ্ধান্ত হয়। শেষমেষ তা আর হলো না।
এর পরে আসলেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। ২৫ মার্চের কলোরাতে ঢাকায় নির্বিচারে পাক বাহিনীর গুলি ও নির্বিচারে হত্যা। সে কি ভয়ানক স্মৃতি। এ পর পাক নৌসেনা ও পাক অধিনায়ক দারুণ ভয় ভয় থেকেছে, আমাদেরও ভয়ের কমতি ছিলো না। খাওয়া-গোসলের চিন্তা ছিলো না, ছিলো না পরিবারের ভাবনা। ভাবছি যুদ্ধ তো লেগেই গেছে। এখন কি করবো, কোথায় যাবো, কিভাবে মোকাবেলা করবো। না পালিয়ে যাবো? সবাই একত্রিত হয়ে বুদ্ধি-পরামর্শ করলাম আমাদের দেশ পাকমুক্ত করতে হলে ঐকবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া উপায় নাই। আমরা সবাই এ প্রশ্নে একমত পোষণ করলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

যুদ্ধ যখন শুরু হয়ে গেলো তখন আমি খুলনা থেকে চলে যাই চট্টগ্রামের বিএনএস বখতিয়ারে। এখানে কাজ করার সময় অনেকেই চলে গেলেন চাকরি ছেড়ে। আমরাও সুযোগ খুঁজছিলাম কিভাবে যাওয়া যায়। অবশেষে আমি ২০ দিনের ছুটি নিয়ে বরিশালে চলে আসি। আমার নিজের গ্রাম সলিয়াবাকপুর না গিয়ে চলে গেলাম শ্বশুর বাড়ি গৌরনদীতে। কারণ দেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধ। পাক সেনারা নানা জায়গায় ইতোমধ্যে অবস্থান নিয়েছে, ক্যাম্প বানিয়েছে। আমি নৌসেনা জানতে পারলে তারা আমাকে খুঁজবে। তাই নিজের বাড়িতে না গিয়ে গৌরনদীতে গেলাম কারণ সেখনে আমার পরিচিতিটা কম।

দেশের অবস্থা ভালো না, মুক্তিবাহিনী অপরদিকে পাক আর্মি, রাজাকার ও আলবদরের সাথে খন্ড খন্ড যুদ্ধ চলছে। পাক বাহিনী রাজাকারের সহযোগিতায় গ্রাম-বন্দর ও শহরে আক্রমণ জোড়দার করছে। গ্রামের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। নির্বিচারে নিরহ মানুষকে ও বিশেষ করে হিন্দুদের ক্ষতি করছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। যেভাবে মুক্তিবাহিনীর আক্রমণ করার কথা তা পারছে না। সাধারণ মানুষের তো ট্রেনিং নাই, অস্ত্র নাই, কি দিয়ে তারা পাক সেনাদের সাথে মোকাবেলা করবে?
থাকছি গৌরনদীর বাসাইলে। আমি ট্রেনিংপ্রাপ্ত। ঘরে বসে থাকলে তো আর হবে না। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে হবে, স্বাধীন করতে হবে। এ প্রত্যয় আমি আমার শ্বশুর বাড়ি ও তার আশপাশের ১৪-১৫ জনকে নিয়ে ’৭১ এর জুলাই মাসে ভারত রওয়ানা হই। তখন রাস্তাঘাট তেমন ভালো ছিলো না, গাড়ির সংখ্যাও কম। অন্যদিকে গাড়িতে গেলে পথে পথে পাক বাহিনী ও রাজাকার তল্লাসী করে। সে ভয় আমাদের মধ্যে কাজ করছিলো। তাই গ্রামের আনাচে-কানাচে দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। গ্রাম, শহর ও বাজার পেরিয়ে আমরা বনগাঁও যাই। বনগাঁও ক্যাম্পের ইনচার্জ ছিলেন এম এম রহমান, তার বাড়ি ছিলো যশোরে। তিনি তখন স্কুল মাস্টার ছিলেন। তার সাথে কথা বলি আমরা, জনাব রহমানকে আমাদের বিস্তারিত জানাই এবং আমার পরিচয় দিলে তিনি আমাকে চিনে ফেলেন, কেননা আমি পাকিস্তান, খুলনা ও চট্টগ্রামে নৌসেনা হিসেবে গানবোর্ড পরিচালনা করতাম। জনাব রহমান আমাকে বললেন, আমাদের কিছু গানবোর্ড ও নেভির লোক ভারতের হাসনাবাদে রয়েছে। আপনারা হাসনাবাদে যান। আমরা যথাসময়ে হাসনাবাদে পৌঁছে সেখানে তিন/চার দিন থেকে টাকিগঞ্জ ক্যাম্পে যাই।

এই টাকিগঞ্জে আমরা মেজর এম এ জলিলের সাথে দেখা করি। তার সাথে কথা হওয়ার পর ট্রেনিং ক্যাম্পে আমাদের রিপোর্ট করতে বলেন। এই ক্যাম্পে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অনেকের সাথে দেখা হয়। দেখা হয় ক্যাপ্টেন শাজাহান ওমর ও ছাত্রলীগের নেতা রঙ্গুর সাথেও। টাকিগঞ্জ ছিলো ট্রেনিং সেন্টার। বাংলাদেশ থেকে যারা যেতো তাদের আমরা ট্রেনিং দিয়ে অস্ত্র গোলাবারুদসহ বাংলাদেশে পাঠাতাম। এভাবে দিনের পর দিন গড়িয়ে যেতে লাগলো। দেশে কোথাও কোথাও তুমুল বেগে পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ সংগঠিত হচ্ছে। অনেক নীরহ মানুষ মারা যাচ্ছেন আর শহীদ হচ্ছেন মুক্তিবাহিনী। পাক আর্মি তো মরছেই। ইতোমধ্যে যুদ্ধ শেষের দিকে চলে আসছে বলে আমাদের মনে হলো। এর পর ডিসেম্বর মাসের শুরু হয়। আমি ডিসেম্বরের ১৩ কি ১৪ তারিখ গানবোর্ড নিয়ে নৌপথে খুলনায় আর মেজর এম এ জলিল ভারতীয় ট্যাংক নিয়ে সড়ক পথে সাতক্ষীরা হয়ে খুলনা প্রবেশ করেন। ঐ সময় ভারতীয় মেজর তাদের ট্যাংক নিয়ে প্রবেশ করতে সাহস পেলো না, যা মেজর এম এ জলিল পেরেছিলেন। তিনি সাহসের সাথে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ফোর্স নিয়ে খুলনায় পৌঁছলেন। যা ছিলেন উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা। মেজর জলিল ও সঙ্গীয় ফোর্স যখন খুলনায় আসলো তখন খুলনার পাক আর্মি স্যারেন্ডার করলো।
ইতোমধ্যে ১৬ ডিসেম্বরে আমাদের দেশ শত্রুমুক্ত হলো, দেশ হলো স্বাধীন, পেলাম লালসুবজের পতাকা। আনন্দে আমরা আত্মহারা হয়ে যাই। এর পর খুলনায় থাকা অবস্থায় আমাদের কয়েকজনকে ফোর্স রিটায়ের্টমেন্ট দিয়ে দেশের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। দেশ স্বাধীন হলো কি আর করবো, চাকরি তো নেই। পরে আমি ঢাকায় এসে শিপিং করপোরেশনের জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আবার চাকরি শুরু করি এবং ১৯৮৭ সালে তা শেষ করি।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ রক্ষায় ঝাপিয়ে পরেন, ছিনিয়ে আনেন স্বাধীনতার পতাকা। এখন ২০২৪ সালে আপনার বয়স ৮৬ বছর। এই বয়সে এসে দেশ, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি? এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, জাতির পিতার ডাকে আমরা যে স্বাধীনতা চেয়েছিলাম তা পাইনি। আমরা শোষণ ও নির্যাতনহীন সমাজ চেয়েছিলাম। চেয়েছি আইনের শাসন, চেয়েছি ধনীগরীবের মধ্যে ভারসাম্য। এখন দেখছি সেগুলো এ দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যে অর্থে বঙ্গবন্ধু সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন তা ভূলণ্ঠিত হয়েছে। দেশ এখন অরাজগতায় ভরপুর। কোন রাজনৈতিক দলই তাদের কথা রাখেনি, অন্যদিকে কুচক্রিমহল তো রয়েছেই। তবে বঙ্গবন্ধু একজন গ্রেড লিডার।

৮৬ বছর বয়সের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বদিউল আলম মোল্লা তার দীর্ঘ কথোপকথনের শেষ পর্যায় বলেন, মানুষের স্বপ্ন থাকে, স্বপ্ন কোন দিন কারো শেষ হয় না। স্বপ্ন সবাই বোনে এবং সে বুননের সাধ তিনি পেতে চান, সে যেই হোন না কেন। কেউ কোন দিন বলেনি যে, তার আশা শেষ হয়ে গেছে। বা তার কোন আশা নেই বা ভালোবাসা নেই। মানুষ জীবনে যে স্বপ্ন দেখে তাই তার আশা। এই আশা নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকেন যুগ যুগ ধরে। পৃথিবীর শুরু থেকেই মানুষ আশায় বাসা বাঁধে, সেই বাসায় এক সময় হয় ফল ও পোঁকা। সুস্থ স্বাভাবিক ও বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের প্রত্যাশা থাকে সাজানো, আর অসুস্থ্য ও বিবেকহীন মানুষের প্রত্যাশা থাকে এলোমেলো। যার যার নিজস্ব ভাবনা নিয়েই মানুষ বড় হয়। একদিন এসব আশা নিয়ে কেউ কেউ এই ধরাধাম ছেড়ে দূরে বহু দূরে চলে যান। কারো যাওয়াটা হয় সহজ কারো বা বাঁকা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বদিউল আলম আরো বলেন, মানুষ কিন্তু জীবনকে অনেক ভালোবাসে, যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয় আপনি সবচেয়ে কাকে ভালোবাসেন। এর সঠিক উত্তর হবে নিজেকে, এর পর অন্য সব। দ্বিতীয়টি এই পৃথিবী। যদি একজন মৃত্যু পথযাত্রী যার দুনিয়াতে আর বাঁচার হয়তো শেষ সময় অতিবাহিত হচ্ছে। তাকে প্রশ্ন করা হলেও তিনি দুনিয়ার ভালোবাসার কথা, এই দুনিয়ার আশা-প্রত্যাশার কথাই বলবেন। তিনি বলেন, সামনে যে আমার ওইসব কাজ করতে হবে। পরকালে কি হবে, কি করবেন তাতো বলেন না। সুতরাং অনুমান করা যায়, মানুষ কি চায়, কি ভালোবাসে। তবে সংসার ধর্ম মানুষের জন্মগত অধিকার ও দায়বদ্ধ। মানুষকে বাঁচতে হলে কোন না কোন অবলম্বন প্রয়োজন হয়, সেটাই হয়তো এই সংসার ও পৃথিবীর মোহ। তবে সংসার ধর্মও ইবাদত। এ নিয়ে নানা জনের নানা মতামত থাকতে পারে তা সত্যি। এসব কিছুর ওপরে মানুষ সত্যি। কেউ কেউ পৃথিবীর মায়া কাঠিয়ে উঠতে পারেন, তবে তার সংখ্যা কম। তবে ভালো মানুষ আছে বলেই পৃথিবী এখনো সজীব। আমি চাই দেশ শান্তিতে থাকুক, আর আল্লাহর হুকুম মেনে চলুক। আল্লাহই হলেন আমাদের শেষ আশ্রয় স্থল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরও নিউজ