রিয়াজ মাহমুদ বিনু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আক্তার হোসেন মিলন নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে নিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫ টার দিকে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে বরণ করতে ঢাকঢোল পিটিয়ে যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন জামায়াতে ইসলামী। অনুষ্ঠানটি দলের কার্যালয়ে না করে উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার অফিস কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। এসময় লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে সদস্য ফরম পূরণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা মিলন। মিলন কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও ওই এলাকার হাজি নছিরুল হকের ছেলে।
জানা যায়, এক সময় তিনি আ স ম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে মেজর আবদুল (অব.) মান্নানের বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগদেন। কিছুদিন পর বিকল্পধারা ছেড়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। হয়ে যান উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে দলটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ইউপি নির্বাচনে অংশ নেন তিনি এবং নৌকার পক্ষে রাজপথে প্রথম কাতার থেকে নেতৃত্ব দেন মিলন। এর পর সামনে আসে ৫ আগস্ট গনঅভ্যুত্থান। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ প্রকাশ্যে এসে যোগ দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে।
হাজিরহাট ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন মিলনের জামায়াতে যোগদানকে ঘিরে মাদরাসার অফিস কক্ষে প্রকাশ্যে আয়োজন করা হয় যোগদান অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করা হলে শুরু হয় তোলপাড়। গতকাল বুধবার বিকেল থেকে সারারাত ব্যাপি পক্ষে-বিপক্ষে চলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসে অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও প্রকাশ্যে যোগদান অনুষ্ঠান করা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে নেট দুনিয়ায়।
যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন-কমলনগর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা হুমায়ুন কবির, জামায়াত সমর্থিত আলেম মাওলানা যায়েদ হোসাইন আল ফারুকী, হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ও ফজুমিয়ারহাট মাতাব্বর নগর দারুচ্ছুনাত আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলী হোসেন সহ বিপুল সংখ্যক জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
এ ব্যাপারে জামায়াতে যোগদান করা আ.লীগ নেতা আক্তার হোসেন মিলন বলেন, আমি যখন আ. লীগে ছিলাম, তখন তারা আমাকে জামায়াত ট্যাগ দিয়ে মাঠে দাঁড়াতে দেয়নি। এখন আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাদরাসার অফিসে একটি দোয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ মিলন মিয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে দলে যোগদান করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাহাত উজ জামান বলেন, মাদরাসার অফিস কক্ষে সবধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সরকারি আইনের পরিপন্থী। ঘটনাটি তিনি সোসাল মিডিয়ায় দেখেছেন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বলা হয়েছে।