বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের আপসহীন বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর শোকসভা আগামীকাল ১৭ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার বিকাল ৪টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। শোকসভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকসভা আয়োজক জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ব্রিগেঃ জেনাঃ (অবঃ) ডাঃ এম. জাহাঙ্গীর হোসেন। শোকসভা সফল করতে সর্বস্তরের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সকল গণতান্ত্রিক ব্যক্তি, শক্তি ও সংগঠনের নেতা-কর্মি-দরদি-সমর্থকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হলো।
উল্লেখ্য, কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-এ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য। তিনি ১৯৫১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পদ্মা পাড়ের ফারাকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুর রহিম রেলওয়েতে কর্মরত ছিলেন এবং মা আমেনা খাতুন ছিলেন গৃহিনী। তিনি ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে বড় বোনের পর দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে বড় ছিলেন। তিনি দৌলতপুর মহসিন স্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে মেট্রিক এবং ১৯৬৯ সালে বিএল কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। ১৯৬৯-৭০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবস্থায় পার্টি বিপ্লব অগ্রসর করার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে সার্বক্ষণিক বিপ্লবী কর্মি হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। এ সময়টা দক্ষিণ এশিয়া ও পাকিস্তানের রাজনীতিতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার যেমন মুখোমুখি অবস্থান ছিলো, তেমনই বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল বিরোধী গণআন্দোলন-গণসংগ্রাম ও বিপ্লবের ছিল উত্তাল সময়। এ সময়ে বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী দেশগুলোতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব তথা বিশ্ববিপ্লবকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত তীব্রতর হয়ে উঠে।
সমাজাতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৫৩ সালে কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যু এবং ১৯৫৪ সালে সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভ চক্র ক্ষমতাসীন হয়ে ১৯৫৬-এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬০-এর দশকে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ সংশোধনবাদ সামনে আনা হলে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহাবিতর্ক শুরু হয়। প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) এই মহাবিতর্কে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) বিকল্প বিপ্লবী ধারার পক্ষে থাকেন। তিনি ১৯৬৮-৬৯-এর গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে খুলনায় মন্ত্রী সবুর খানের বাড়ী ঘেরাও কর্মসূচির রূপকার ও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সভ্যপদ লাভ করেন। ১৯৭০-৭১ সালে পার্টির খুলনা জেলা কমিটির নবীন ও সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ সালের বিপ্লবী যুদ্ধে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চীন ঘেরাও নীতির প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার ভারতের সাথে যুক্ত হয়ে ১৯৬২-এর চীন-ভারত যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ১৯৬৫ সালে ভারতকে দিয়ে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত করে। এতে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৬ সালে আওয়ামীলীগকে দিয়ে ৬-দফার আন্দোলন প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে দ্বিখন্ডিত করার পরিকল্পনায় অগ্রসর হয়। এ সময়ে প্রতিপক্ষ সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদও বসে থাকে না। এ প্রেক্ষিতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে যুদ্ধ শুরু হয়।
প্রতিবিপ্লবী এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী যুদ্ধ গড়ে তোলা হয়। দেশব্যাপী বিপ্লবী যুদ্ধকে অগ্রসর করার প্রেক্ষিতে ‘গণমুক্তি ফৌজ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিপ্লবী সেনাবাহিনী, গেরিলা স্কোয়াড, ঘাঁটি এলাকা, মৌসুমি ঘাঁটি এলাকা ইত্যাদি গড়ে তুলে বিপ্লবী যুদ্ধকে অগ্রসর করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি