• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন

এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সনাক্ত হচ্ছে না!

রিপোর্টার নাম: / ১৯৫ জন দেখেছে
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫

: মুহাম্মদ মিজানুর রহমান :
প্রতি বছর সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ মারা যায় মারণব্যধি এইডসের কারণে। বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে প্রথম এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) পজিটিভ ব্যক্তি শনাক্ত হয়। এতোগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও তেমন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বর্তমান বছরে এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ।
এইডস বা এসটিডি কন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০২৪ সালে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন, মারা গেছেন ১৯৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হন ১ হাজার ২৭৬ জন এবং মৃত্যু হয় ২৬৬ জনের। আর চলতি ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। একদিকে যখন সীমা ছাড়িয়ে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা অন্যদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে এইডস নিমূলের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার।

এইচআইভি নামক ভাইরাস সর্বপ্রথম আমেরিকায় বিজ্ঞানীদের মাঝে ধরা পড়লেও রোগটি আফ্রিকা থেকেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়। এইডসের বিস্তার ইতোমধ্যে মহামারি রূপ নিয়েছে বলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন দেশ ভারত, মিয়ানমার ও নেপালে ইতোমধ্যে এইডস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো মৃদু আক্রান্তের দেশ হিসেবে বিবেচিত, তথাপি প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং মিয়ানমারে এ রোগের দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশ রয়েছে ঝুঁকিতে।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান রোগ নিরাময়ে সক্ষম হলেও প্রাণঘাতী রোগ এইডস নিরাময়ে অক্ষম। এইডস রোগের ভাইরাস এইচআইভি শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের রোগপ্রতিরোধক কোষ যেমন-হেলপারটি সেল, মনোসাইট, ম্যাক্রফেজ, ডেনড্রাইটিক সেল, চর্মের ল্যাঙ্গারহেন্স, মস্তিষ্ক ও গোয়াল সেল ইত্যাদিকে আক্রমণ করে এবং সেগুলোকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। ফলে মানবদেহের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন যেকোনো সংক্রামক জীবাণু সহজেই এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে পারে। শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটে। এইডস (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিয়েন্সি সিনড্রোম) হলো এক প্রকার ভাইরাস দ্বারা গঠিত রোগ। যে রোগ এইচআইভি নামক ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এইচআইভি একটি ভাইরাস যা মানুষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। তাছাড়া এই ভাইরাসটি রক্তের সাদা কোষ নষ্ট করে দেয়, যার ফলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে এইডস রোগে আক্রান্ত হওয়া। তবে এইচআইভি এবং এইডস কিন্তু একই বিষয় নয়। এইচআইভি একটি ভাইরাস এবং এইডস একটি অসুস্থতা, যা এইচআইভির কারণে হয়।
এইডস নিরাময়ের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ না থাকলেও, অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (অজঞ) চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনকাল বাড়ানো যায়, তবে প্রতিরোধই এই রোগের প্রধান সমাধান। এইডস বাড়ার কারণ হলো: অনিরাপদ যৌনতা: অরক্ষিত পায়ুপথে বা যোনিপথে যৌন মিলন (বিশেষত একাধিক সঙ্গীর সাথে) প্রধান কারণ। সচেতনতার অভাব: এইচআইভি ছড়ায় না এমন ভুল ধারণা (যেমন সাধারণ স্পর্শে ছড়ায়) এখনও প্রচলিত, যা সচেতনতা কমায়। স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা: অপর্যাপ্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (বিশেষত উন্নয়নশীল দেশে) ঝুঁকি বাড়ায়। শিরা-ইনজেকশন: মাদকাসক্তদের মধ্যে একই সূঁচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে ঝুঁকি বাড়ে, যদিও বাংলাদেশে এখন এর চেয়ে যৌন সংক্রমণ বেশি। সংক্রমিত রক্ত: স্ক্রিনিং ছাড়া রক্ত বা অঙ্গ প্রতিস্থাপন।

এ প্রাণঘাতি রোগ নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণ করা যেমন- এর কোনো নির্দিষ্ট নিরাময় নেই: এইডস-এর সম্পূর্ণ নিরাময়ের কোনো ওষুধ নেই। অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির মাধ্যমে ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে এবং যা কোষের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে রোগী সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। কখন চিকিৎসা নেয়া যেতে পারে রোগী সে সম্পর্কে চিকিৎসকগণ বলেন, উপরে উল্লেখিত ঝুঁকির কারণগুলো থাকে বা এইডসের লক্ষণ (যেমন দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, জ্বর, ওজন হ্রাস, ত্বকের সমস্যা) দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিনিয়তই বাড়ছে এইচআইভি বা এইডস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গবেষণা বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ শতাংশই সমকামী। এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে ১ ডিসেম্বর পালিত হয় বিশ্ব এইডস দিবস। আর ২০৩০ সাল নাগাদ দেশ থেকে এইচআইভি বা এইডস নির্মূলের পরিকল্পনা বাংলাদেশ সরকারের। সম্প্রতি রাজধানীতে এলার্জি পরীক্ষা করতে গিয়ে এইডস শনাক্ত হয় এক যুবকের। তিনি জানান, সমকামিতায় জড়িয়ে যাওয়ায় এমন পরিণতি তার।
চিকিৎসকরাও বলছেন একই কথা। তারা বলেন, বর্তমানে দেশে এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই সমকামী। এ ছাড়া ৪০ শতাংশের মতো বিদেশ থেকে এ রোগ বহন করে নিয়ে আসে। আর ব্ল্যাড বা এ জাতীয় বিভিন্নভাবে কিছু লোক আক্রান্ত হন।
ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল দেশের একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র। চলতি বছর এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৩৫০ এইচআইভি রোগী। বর্তমানে ভর্তি আছেন বেশ ক’জন। কিট সংকটের পাশাপাশি জনবলের অভাবে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তা পাচ্ছেন না রোগীরা। সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এইচআইভি আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে বই কমবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরও নিউজ