• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

হ্যাঁ ভোট কোনো দলের ম্যান্ডেট নয়, এটা জনগণের রায়: ড. আসিফ নজরুল

রিপোর্টার নাম: / ১৪৯ জন দেখেছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

রতন রায় বগুড়া থেকে: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, হ্যাঁ ভোট কোনো রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট নয়, এটা বাংলাদেশের মানুষের ম্যান্ডেট।

গণভোট কোনো দলের স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে। বাংলাদেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়।

সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, এবারের নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটছে। প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দিচ্ছেন এবং প্রথমবার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকার তিনটি প্রধান অঙ্গীকার করেছিল সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার এবং নির্বাচন। সংস্কার বলতে এমন একটি ব্যবস্থার পরিবর্তন বোঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে আয়নাঘর, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা এবং দীর্ঘদিন বিচার ছাড়াই মানুষকে কারাগারে আটকে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কোনো আয়নাঘর না হয়, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড না ঘটে, দুর্নীতি না হয়, রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট ও পাচার না হয় এই লক্ষ্যেই আইন, নীতি ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক লুট বা রাষ্ট্রকে কারও কাছে নতজানু হয়ে থাকতে হবে না এমন বাংলাদেশ গড়তেই এই সংস্কার প্রয়োজন।

আসিফ নজরুল বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়েছে। তবে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণের মতামত নেওয়ার জন্যই এই গণভোটের আয়োজন।

তিনি বলেন, বৈষম্য, নিপীড়ন, অবিচার ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাইলে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। আর যদি কেউ আগের মতো দুর্নীতি, বৈষম্য ও একচ্ছত্র ক্ষমতার পক্ষে থাকেন, তাহলে তারা না ভোট দেবেন।
গণভোটে প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, বিরোধী দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন কমিশন গঠন, ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দলের প্রতিনিধি, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ, নারী প্রতিনিধিত্ব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারার মতো সংস্কারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, একচ্ছত্র ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে গেলে কী পরিণতি হয়, তা ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণ দেখেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই সরকার কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সরকারের মেয়াদ আর মাত্র এক মাস। এরপর তারা আর ক্ষমতায় থাকবে না। উদ্দেশ্য একটাই বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরও নিউজ