• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের রিসেপশন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতার ওপর গুরুত্বারোপ বগুড়ার উন্নয়নে ধানের শীষের বিকল্প নেই: মমি শিবগঞ্জে খাল খনন পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার বগুড়ায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র সভা একটি কাঠের বেঞ্চ-এর গল্প শক্তি, কৌশল ও বিপ্লব: বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্বাধীনতা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রগতি কল্যাণ সংস্থার শ্রদ্ধা নিবেদন গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে অন্তত ৫০টি পরিবার

গুচ্ছগ্রামে এখন আর থাকতে চান না বাসিন্দারা

রিপোর্টার নাম: / ১৬৬ জন দেখেছে
আপডেট: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫

বানারীপাড়া (বরিশাল) থেকে হাসিবুর রহমান নবীন: সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় দেশে কোটি-কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত হয় বহু আবাসন বা গুচ্ছগ্রাম। কিন্তু এসব আবাসনে এখন আর থাকতে চান না বাসিন্দারা। জাপান সরকারের ঋণ মওকুফ তহবিলের (জেডিসিএফ) অর্থায়নে গুচ্ছগ্রাম (ক্লাইমেট ভিকটিমস রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট) নামে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে সাকরালের গুচ্ছগ্রামে বসবাসের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা অনেকাংশে নিশ্চিত করা হয়নি।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সোনাহার গ্রামের লাগোয়া সন্ধ্যানদীর তীরে অবস্থিত সাকরাল গুচ্ছগ্রাম গত পাঁচ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও আজও এখানে বসবাসকারীরা নানা সমস্যায় ভুগছেন। এই গুচ্ছগ্রামে মোট ৫৩টি আধা-পাকা ঘর রয়েছে। কয়েকটি ঘর বসবাসের অনুপযোগী বিধায় সেখানে কেউ থাকছেন না। আবাসনের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মল্লিক জানান, পাকাঘর নির্মাণে মানসম্মত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। এর ফলে দুই বছর পরেই দেয়ালগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে, টিন দিয়ে পানি পড়ে। মেঝেতে সিমেন্ট না থাকায় গর্তে পরিণহত হয়েছে, তাই তো পোকামাকরের সাথে মানুষের বসতি।
ভেতরের রাস্তা বর্ষার সময়ে পানি জমে। বাথরুম ও গোসলখানার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও অস্বাস্থ্যকর। শিশুদের জন্য নেই কোন শিক্ষার ব্যবস্থা। তারা পড়াশুনা না করে বেপরোয়াভাবে অলস সময় কাটায়। তিনি আরো জানান, ছোট ছেলেমেয়েদের প্রাথমিক ও ইসলামি শিক্ষা দেয়া খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। তা না হলে তাদের ভবিষ্যৎ জীবন অন্ধকার। এছাড়া নামাজের জন্য কোন আলাদা ঘর নেই, যা নামাজিদের জন্য বড় সমস্যা।

এদিকে পাশের সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গন ক্রমশ এগিয়ে আসছে। অত্র এলাকার ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, যে কোনো মুহূর্তে এই গুচ্ছগ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এখানকার বাসিন্দারা নানা ধরনের কাজকর্মে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কেউ মাছ ধরে, কেউ ক্ষুদ্র দোকানি ও মজুরে। তবে কর্মসংস্থানের স্বাভাবিক প্রাপ্যতা এখানে নেই। আবাসনে প্রশাসনের নজরদারি মোটেই নেই। সরকারিভাবে শুধু টিসিবি’র সুবিধা পাচ্ছেন। বিশেষ করে অসহায় মহিলাদের আয়ের অভাবে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আসাবনের বেশির ভাগ বাসিন্দাই অত্র এলাকার নয়। যাদের ঘর নাই, জমি নাই নদী ভাঙ্গনে অসহায় তাদেরকে যাচাই-বাচাই করে এ ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়। দেখা গেছে কয়েকটি বরাদ্দকৃত ঘরে কেউ বসবাস করছেন না। অন্যদিকে যার প্রয়োজন তার জন্য ঘর বরাদ্দ নেই। বাসিন্দাদের দাবির মধ্যে রয়েছে-ঘর মেরামত, পানি নিষ্কাষণ, মসজিদ নির্মাণ, আরবি শিক্ষার ব্যবস্থা ও মেধাবি শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান।
রানি, শামিম, আব্দুল্লাহ, কবির, জালাল, কাজল, রফিকসহ অন্যান্য বাসিন্দারা এই দাবিকে সমর্থন করেন। এলাকার বাসিন্দা মো. খলিল সিকদার জানান, সাকরাল গুচ্ছগ্রামের বর্তমান বাস্তবতা প্রমাণ করে, প্রশাসন ও সমাজের স্বক্রিয় সহায়তা ছাড়া মানুষের জীবনযাত্রা টেকসই করা সম্ভব নয়। সঠিক উদ্যোগ ও মানবিক সহযোগিতা না হলে এখানে বসবাসরত মানুষদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়েই থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরও নিউজ