• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে অন্তত ৫০টি পরিবার

রিপোর্টার নাম: / ৭৪ জন দেখেছে
আপডেট: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

হাসিবুর রহমান নবীন, বানারীপাড়া (বরিশাল) থেকে: দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটলেও তার সুফল থেকে এখনো বঞ্চিত অনেক গ্রামীণ জনপদ। সরকারের গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, তৃণমূল পর্যায়ে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প এখনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘ ২০ বছরেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পায়নি। ‘বিবিএসজি হাই স্কুল থেকে সোনাহার মগড়া (প্রাথমিক বিদ্যালয়)’ পর্যন্ত প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটি এখনো ইট বিছানো অবস্থায় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি ‘এইচবিবি’ থেকে ‘বিসি’ (বিটুমিন কার্পেটিং) সড়কে উন্নীত হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সড়কটির আইডি নম্বর ৫০৬১০৪০৪৪।

সড়কটির প্রায় ০.৮৪ কিলোমিটার মাটির এবং ০.৭৬ কিলোমিটার ইটের পেভমেন্ট অংশ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্পেটিং না হওয়ায় বর্তমানে এটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা এলজিইডি বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

এদিকে মূল সড়কের মাঝামাঝি দক্ষিণ দিকে রয়েছে একটি সংযোগ সড়ক, যা কাজেম আলী ফকির বাড়ির কালভার্ট থেকে শুরু হয়ে আলী আহম্মেদ মেম্বর বাড়ি হয়ে আব্দুল হক খান বাড়ির কালভার্ট ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ব্যবহার করে অন্তত ৫০টি পরিবার মূল সড়কে ওঠানামা করে। কিন্তু সড়কটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে অতীতে দুটি কালভার্ট নির্মাণ এবং তিন দফায় কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে মাটি ভরাট করা হলেও এরপর আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়কের বেশ কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যায় এবং কাদামাটির কারণে চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

এই দুই সড়কের চারপাশে রয়েছে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্থানীয় হাট। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে চরম দুর্ভোগে পড়ে। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল ও পান বাজারজাত করতে পারছেন না। জরুরি পরিস্থিতিতে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনপথ দ্রুত সংস্কার না করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে সড়ক দুটি সংস্কার ও উন্নয়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরও নিউজ