রিয়াজ মাহমুদ বিনু-রামগতি-লক্ষ্মীপুর থেকে: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে মেয়েদের উত্ত্যক্তের ঘটনার মীমাংসা করতে গিয়ে সালিশদারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে| এ ঘটনায় উপজেলা যুবদল, ছাত্রদলের ৫ নেতা ও নারীসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে| শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৯ ন¤^র ওয়ার্ডের চরকলাকোপা গ্রামের চৌরাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে| খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন|
হামলার শিকার নেতারা হলেন- রামগতি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ পারভেজ খান, পৌরসভা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহাজাদা প্রিন্স, আলেকজান্ডার ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলম হাওলাদার, চরবাদাম ইউনিয়ন যুবদল নেতা তুহিন ভুঁইয়া ও চরবাদাম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মেজু|
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত সোমবার (৮ জুন) চরকলাকোপা গ্রামের রাকিব,আরিফ ও হৃদয় সহ কয়েকজন রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার আসলপাড়া সংলগ্ন মেঘনা নদী ঘুরতে গিয়ে কয়েকজন নারী দর্শনার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে| এসময় স্থানীয় আরাফাত তাদের বাধা দিলে উভয়ে তর্কে জড়ায়| পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল দু’পক্ষকের কথা শুনে তাদেরকে সতর্ক করে ওই স্থান থেকে তাড়িয়ে দেয়| এঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিব,আরিফ ও হৃদয়ের লোকজন কয়েকটি মোটরসাইকেল যোগে আবারও নদীর তীর এসে আরাফাতের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হলে খবর পেয়ে আলেকজান্ডার ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলম হাওলাদার গিয়ে উভয়কে ধমক দিয়ে বিষয়টি নিয়ে পরে মিমাংসা করার প্রস্তাব দেন| এ নিয়ে শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধা সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৯ ন¤^র ওয়ার্ডের চরকলাকোপা গ্রামের চৌরাস্তা মোড়ে উভয়পক্ষ সমাধানের জন্য বসেন| এসময় প্রতিপক্ষের স্থানীয় শতাধিক লোকজন সালিশদারদের ঘিরে ফেলে তাদের উপর হামলা চালায়| পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে| সংঘর্ষ আলম হাওলাদারের পক্ষের রিয়াদ, শান্ত, মজনু হাওলাদার, মোঃ জাকের, মোঃ রিদয়, জাহের হাওলাদার, আওলাদ ও মিল্লাদ সহ ৮ জন আহত হয়| প্রতিপক্ষের ফারুক,সোহেল, রুবেল, ইসরাফিল, আরিফ, খোকন,ইউছুফ, রিব্বান, শরীফ, জাবেদ, রিপন, জুয়েল, রিদয়, আয়েশা, আমেনা বেগম, শারমিন আক্তার, হাজরা বেগমসহ ১৭ জন আহত হয়| উভয়পক্ষের আহতরা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে|
হামলার শিকার আলম হাওলাদার ও তুহিন ভুঁইয়া বলেন, বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য আমরা বসেছিলাম| তখন প্রতিপক্ষের শতাধিক লোকজন তাদের উপর এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন| তাদের হামলায় সালিশদার সহ মোট ১৩ জন আহত হয়| এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তারা|
প্রতিপক্ষের ফজলে এলাহী বলেন, তারা এসে একতরফা সালিশ করার চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়| একপর্যায়ে আমাদের প্রায় ১৭ জনকে মারধর করেন তারা|
রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন| এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি| অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে|