• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন

আজ বিশ্ব এইডস দিবস ও আমাদের অঙ্গীকার

রিপোর্টার নাম: / ১৬৭ জন দেখেছে
আপডেট: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান : আজ ১ ডিসেম্বর বিশ^ এইডস দিবস। দিবসটি পুরো পৃথিবীজুড়ে পালিত হচ্ছে। দিবসটিতে ঐসব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ, যাদের আমরা এইচআইভি/এইডসের কারণে হারিয়েছি। যারা প্রাণঘাতী ভাইরাস নিয়ে বেঁচে আছেন, তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন প্রকাশের অঙ্গীকার আমাদের।

এ দিবসে আমরা বলতে পারি, এইডস (HIV/AIDS) নিয়ে সাম্প্রতিক খবরগুলো বলছে বাংলাদেশে রোগী শনাক্তের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, এবং কিছু অঞ্চলে (যেমন খুলনা, সিরাজগঞ্জ) পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে; বিশ্বজুড়ে এইডস নির্মূলে নতুন গবেষণা ও অগ্রগতি হলেও, বাংলাদেশে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ গত ৬ বছরে রোগী দ্বিগুণ হয়েছে এবং নতুন শনাক্তদের মধ্যে সমকামী পুরুষের সংখ্যাও বেশি। এসবের মধ্যেও দিবসটি উপলক্ষ্যে ২০২৫ সালের মূল বার্তা হলো-চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে, নতুনভাবে এইডস প্রতিরোধ গড়ে তোলা’।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি মোকাবিলায় অগ্রগতি হলেও সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ আছে। আক্রান্ত: ২০২৪ সালের শেষে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে ছিলেন। নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যু: একই বছরে ১৩ লাখ নতুন সংক্রমণ এবং প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে এই এইডস-সংক্রান্ত জটিলতায়। গবেষকরা বৃদ্ধির কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে যেমন- চিকিৎসা বঞ্চিত: এখনও এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৯২ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছে না। ঝুঁকিতে যারা: শিশু, কিশোর-কিশোরী, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি এইচআইভি ঝুঁকিতে রয়েছে। তরুণদের মধ্যে সংক্রমণ: তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতি: বাংলাদেশের খুলনা ও সিরাজগঞ্জের মতো জেলায় এইডস রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি ভয়াবহতা নির্দেশ করে। সমকামী পুরুষ: চলতি বছর শনাক্ত হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ সমকামী পুরুষ, যা সংক্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা নির্দেশ করে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়েছে বলেছে যে অর্থসংকট ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ, অগ্রগতিকে আটকে দিতে পারে এবং বৈষম্য এখনও সবচেয়ে বড় বাধা। নতুন গবেষণার ফলাফল আশার আলো দেখাচ্ছে। দীর্ঘমেয়দি ইনজেকশন ভিত্তিক অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ এখন অনেকের জন্য সহজ ও টেকসই চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করছে। বিশ্ব এইডস দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে এইডস মোকাবিলা শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়Ñ বরং, এটি একটি মানবিক অধিকার এবং এটি ন্যায়, সমতা ও সম্মানের বিষয়।
গবেষকরা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতি ও অগ্রগতির বিষয় বলেন। গবেষণায় অগ্রগতি: HIV নিরাময়ের জন্য যুগান্তকারী গবেষণা চলছে, যা গবেষকদের আশাবাদী করে তুলেছে, কিন্তু এখনও সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হয়নি। কী করা প্রয়োজন (সাধারণ): সচেতনতা বৃদ্ধি: এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। পরীক্ষা ও চিকিৎসা: নিয়মিত HIV পরীক্ষা করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা প্রয়োজন। সামাজিক প্রতিরোধ: সামাজিক কুসংস্কার দূর করা এবং আক্রান্তদের প্রতি সহায়ক মনোভাব গড়ে তোলা জরুরি। ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূল করার জন্য টেকসই রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবাধিকার-কেন্দ্রিক পদ্ধতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ১৯৮৮ সাল থেকে সারা বিশ্বে ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করে আসছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরও নিউজ