• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন

প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকায় দূর্নীতির অভিযোগ!

রিপোর্টার নাম: / ১৪৮ জন দেখেছে
আপডেট: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের দাতা সদস্যসহ স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস না করিয়ে সামাজিক-রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ত থাকা,পাশের স্কুলের শিক্ষার্থীকে নিজ স্কুলের শিক্ষার্থী দেখিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি দেখানো, উপবৃত্তির টাকা নিজ মোবাইলের মাধ্যমে আত্মসাত এবং ক্লাস ফাঁকি দিয়ে জন্ম নিবন্ধনসহ নানা কাজে অর্থ আয়ের অভিযোগ করা হয় ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই শিক্ষকরা। আর শিক্ষা কর্মকর্তার দাবী, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নাম এয়াকুব আলী। আর ওই সহকারী শিক্ষকের নাম রায়হান মজুমদার।

তথ্যমতে, প্রায় এক মাস আগে ওই বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য কাজী বেলাল এবং স্থানীয় অধিবাসী ওমর ফারুক ও একরাম হোসেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে দাবী করা হয়, এয়াকুব আলী ওই স্কুল এলাকার বাসিন্দা।তিনি নামমাত্র উপস্থিত দেখিয়ে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ত থাকায় বিদ্যালয়ে পাঠদানে উদাসীনতা দেখা যায়। গত ৫ আগস্টের আগে আ’লীগের নানা কর্মসূচীতে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন। এছাড়া
সহকারী শিক্ষক রায়হান মজুমদার পাশের এলাকার বাসিন্দা। স্কুল সময়ে বিভিন্ন মানুষের জন্ম নিবন্ধনে বয়স পরিবর্তন, এনআইডি ও পাসপোর্টের দালালী করেন। এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কমে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই দুই শিক্ষক যোগসাজসে পাশের এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিজ স্কুলের শিক্ষার্থী হিসাবে ভর্তি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি দেখান শুধু তাই নয়, অনেক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা অন্য মোবাইল ব্যবহার করে তারা আত্মসাত করছেন।
এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ের সার্বিক সার্থে ওই দুই শিক্ষকের বদলী দাবী করা হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পাশের উত্তরপাড়া তালিমুল কোরআন আদর্শ নূরানী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম জানান,তাদের প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী ৩৫০ জন। তবে তাদের কোন শিক্ষার্থী ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখানো হয়েছে এমন তথ্য তাদের জানা নেই।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই দুই শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে গত ১ বছর থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী ১২৭ জন। উপবৃত্তি পায় ৯৪ জন। উপবৃত্তির টাকা অভিভাবকের মোবাইলেই পৌছে। দূর্নীতি বা পাঠদানে অবহেলার প্রমাণসহ কোন অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার পাল জানান,অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরও নিউজ