• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন

ইরানে হামলা হলে সাথে সাথেই পাল্টা হামলা

রিপোর্টার নাম: / ৬০ জন দেখেছে
আপডেট: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করার লক্ষ্যে দেশটিতে সীমিত আকারে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প বর্তমানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা থেকে শুরু করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার মতো বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই অভিযান অনুমোদিত হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা কার্যকর হতে পারে। এই হামলার প্রাথমিক লক্ষ্য হবে ইরানের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক স্থাপনা বা সরকারি দপ্তর, যা তেহরানকে বড় ধরনের সংঘাতের উস্কানি না দিয়েও ব্যাপক চাপে রাখবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান যদি ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ না করে, তবে ওয়াশিংটন তাদের হামলার পরিধি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি পরবর্তীতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলোতে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানে রূপ নিতে পারে।

একজন সূত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যায়ক্রমে হামলার তীব্রতা বাড়ানোর পক্ষপাতী। অর্থাৎ প্রথমে ছোট আকারের হামলা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়ানো হবে, যতক্ষণ না তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করে অথবা দেশটির বর্তমান সরকারের পতন ঘটে।

সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা এখন সীমিত হামলার চেয়েও বড় কোনো সামরিক অভিযানের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও তিনি একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছেন।

এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হবে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা অথবা ইরান সরকারকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করা। তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে অনেক মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষক সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানকে পাল্টা আক্রমণে উস্কানি দিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের জন্য চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সামরিক শক্তির ব্যবহারের বিষয়টি এখন বেশ জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কোনো সীমিত হামলার পথ বেছে নেন নাকি আলোচনার টেবিলে ইরানকে ফেরানোর অন্য কোনো কূটনৈতিক পথ খুঁজে পান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরও নিউজ