রতন রায়, বগুড়া থেকে: বগুড়া শহরের তিনটি প্রধান সমস্যা মাদক, কিশোর গ্যাং এবং যানজট নিরসনে কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবাগত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন পিপিএম।
শনিবার বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, “মাদক নির্মূল শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রকৃত অর্থেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এটি শুধু পুলিশিং নয় রাষ্ট্র এবং ঈমানের দায়িত্ব হিসেবেই আমরা কাজ করব।” কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও সাম্প্রতিক বেশ কিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
শহরের যানজট সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান তিনি। রাস্তা দখল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পুলিশের কোনো ধরনের নীরব ভূমিকা থাকবে না এ কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে তিনি বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে জেলা পুলিশ। যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “আমার দ্বারা কোনো পার্শিয়ালিটি হবে না। গত ২০ বছর হয়নি, আগামী দিনেও হবে না ইনশাআল্লাহ। তদন্তে দাঁড়ি–কমা যেমন পাওয়া যাবে, তেমনই উপস্থাপন করা হবে একটি কমাও বাদ যাবে না।”
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। জুলাই আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতেও গুরুত্বের সঙ্গে অগ্রগতি হবে বলে জানান।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে শিগগিরই বৃহৎ অভিযান শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা–কর্মীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে। থানায় মামলা বা জিডি করতে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না এ বিষয়েও তিনি গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাস, সাধারণ সম্পাদক এস. এম. আবু সাঈদ, নির্বাহী সদস্য মাহফুজ মন্ডল, আবুল কালাম আজাদ, রাহাত রিটু, এফ. শাহজাহানসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা বিভিন্ন গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন। শেষে পুলিশ সুপার বগুড়ার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন