খান জাহিদুল ইসলাম: সালাম বিনিময় হবে মুখ দ্বারা স্পষ্ট ভাষায়। হাত নেড়ে, মাথা নুইয়ে বা অন্য কোনো ইশারায় সালাম জানানো ইসলামী পদ্ধতি নয় বরং প্রচলিত এই রীতি অমুসলিম জাতিগোষ্ঠীর অনুকরণ থেকে এসেছে যা রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন। তবে মহানবী (স.) এর একটি হাদীস অনুযায়ী, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে মুখের সালাম নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় না, তখন মুখে সালাম উচ্চারণের পাশাপাশি ইশারার মাধ্যমে বুঝানো বৈধ হবে। আর পা ছুঁয়ে সালাম দেওয়া ইসলামে অনুমোদিত নয়। রুকুর সাথে সাদৃশ্য হয় বিধায় কিছু আলেম এটাকে মাকরুহ বলেছেন। কুরআন ও সহীহ হাদীসে কোথাও এ ধরনের সালামের উল্লেখ নেই। রাসুলুল্লাহ সা. ও তার সাহাবীরা কখনো পা ছুঁয়ে সালাম বিনিময় করেননি। আমাদের দেশে ঈদের সময়ে পা ছুঁয়ে সালামের প্রচলিত রীতিটিও কুরআন সুন্নাহ বিরোধী। মহান আল্লাহ বলেন “যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয়, তখন তার চেয়ে উত্তমভাবে বা সমপরিমাণে জবাব দাও।” সুতরাং মুখে সালামের জবাবই প্রকৃত সালামের জবাব; পা ছুঁয়ে সালামের জবাব দেওয়া অসম্ভব ও শরীয়তবিরোধী। আমাদের উচিত এসব ভ্রান্ত পদ্ধতির পরিবর্তে সম্মানিত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সহীহ হাদীসে প্রমাণিত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা যেমন: হাত মিলানো কোলাকুলি ও চুম্বন ইত্যাদি।
পা ছুঁয়ে সালাম দিতে ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়নি। এটা স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি কিংবা বাবা-মা কারো জন্যই জায়েজ নেই। সবাইকে মুখেই সালাম দেওয়ার নিয়ম ইসলাম জায়েজ করেছে।
হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘ঐ ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার রহমতের সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী যে প্রথমে সালাম প্রদান করে’। সালাম অর্থ শান্তি, কল্যাণ কামনা ইত্যাদি। সালাম ইসলামি অভিবাদন; পাশাপাশি এটি একটি দোয়াও। আর ইসলমি শরিয়তে সালাম দেওয়ার একটাই পদ্ধতি।