• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

রবীঠাকুর ও পঁচিশে বৈশাখ

রিপোর্টার নাম: / ১৭ জন দেখেছে
আপডেট: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

আজ অনেকে “রবীন্দ্রপূজা”য় ব্যস্ত; চলছে দেখনদারি— কে কত ভালো রবিউক্তি ছড়াতে পারে; চলছে প্রতিযোগিতাও; গান, কবিতাও আওড়াচ্ছে লক্ষ লক্ষ রবিভক্ত। এদের শুধু একটা উপসর্গটা পাওয়া দরকার; পেলেই শুরু পূজাপাজির, ভক্তিগানের, হুজুকের; এরা ভক্তিতে গদগদ কাদা, লাউয়ের লতা— লকপক লকপক।
আজ এরা সরগরম; বাকি সারা বছর রবিঠাকুরের উল্লেখ থাকে না এদের যাপনে। এরা রবিঠাকুরকে পড়ে না এবং সম্যক জানে না। নাহ, এরা রবিঠাকুরকে জানেই না, বোঝেনি, পড়েওনি এবং বুঝতে চায়ও না। ফলে আদপে এদের দ্বারা পঁচিশে বোশেখ হলো “রবীন্দ্র অপমানের” দিবস।
এরা আদপেই “রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করোনি”র মতো।
রবিঠাকুরকে প্রাচীনকালের ঋষি বা ধর্মগুরুর মতো নরমসরম আবেগে কাদা ভাবালুতায় গদগদভাবে প্রকাশ করা, উপস্থাপনা চলছে। যেন তিনি একজন জড়দগব ব্যক্তি! এতেই বোঝা যায় যে, তারা কতটা জানে রবিঠাকুরকে। আদপে সবই আপনমনের মাধুরী মিশিয়ে ব্যক্ত রবি। এতে ভক্তগণের মন মানসিকতাও বোঝা যাচ্ছে। অথচ, রবীন্দ্রনাথ অনেক দৃঢ় সহনশীল, নমনীয় মনের; তিনি বিদ্রোহী, বিপ্লবী; তাঁর যুক্তিবোধ, রসবোধ, জ্ঞানপিপাসা অনেক শানিত, তীক্ষ্ণ, ব্যাপ্ত, গভীর, দীপ্ত; তিনি একটি সৃজনশীল উন্নত মেধা, জীবনবোধে পূর্ণ, মানবতায় ঋদ্ধ। এসবের প্রমাণ তাঁর জীবন ও কর্মে প্রকাশিত। এসবগুলো দেখে না ভক্তগণ; কেননা, ভক্ত মানেই অন্ধ।
এই রবিপূজকগণের সিংহভাগ বিবেকানন্দেরও ভক্ত। অথচ, রবীন্দ্রনাথ এবং বিবেকানন্দ পরস্পর বিরোধী ছিলেন; এই বিষয়ে বহু উক্তি রয়েছে দুজনেরই। কিন্তু ভক্তগণ তা জানে না, জানতে চায়ও না; বিতর্ক, যুক্তি, বিশ্লেষণ সযত্নে সরিয়ে রেখে ভক্তিতে ভাসতে বদ্ধপরিকর এরা; অর্থাত্‍ যুক্তিবোধের চেয়ে আবেগে ভাসতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিবেকানন্দ কটাক্ষ করেছেন রবীন্দ্রনাথকে। তেমনি রবীন্দ্রনাথ রসিকতায় ব্যাঙ্গ করে বিবেকানন্দের পরিচয়ও দিয়েছেন; সেগুলো রবিঠাকুরের খুব উচ্চমানের রসবোধ ও মেধার পরিচয়। যা বিবেকানন্দভক্তবৃন্দ সোজাভাবে ধরেছে; গভীরে ঢোকেনি। হায় রে! মেধার বোধের কী দৈন্যতা!
দুজন পরস্পরবিরোধীকে শ্রদ্ধা জানানো, একই আসনে বসানো হলো দ্বিচারীতা এবং আত্মমর্যাদাবোধহীনতার পরিচয়; মূর্খের পরিচয়, আত্মজ্ঞানহীনতার পরিচয়; এবং দুজনকেই অপমান করা; অর্থাত্‍ যথাযোগ্য সম্মান না জানানো।
আমরা চাই, শ্রদ্ধেয়কে শ্রদ্ধা জানাতে, অশ্রদ্ধেয়কে অশ্রদ্ধা এবং এটা সোজাসাপটা জানাতে চাই। কাউকে শ্রদ্ধা জানানোর পূর্বে তাঁকে সম্যক জানতে বুঝতে হবে। না জেনে প্রশংসা করা, শ্রদ্ধা জানানো বা নিন্দা করা, অশ্রদ্ধা জানানো, দুটোই খারাপ কাজ।
এগুলো যা যা দেখলাম সেসব বিশ্লেষণ করে মিলিয়ে দেখে বললাম। ভুল বললাম কি?
যদি ভুল হয়, তবে, সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় ভুল সেটা জানতে চাওয়া অন্যায় কি? তা না হলে, বলুন।
অতিথি লেখক, শমীন্দ্রঘোষ, কোলকাতা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরও নিউজ