“আলোকিত মানুষ গড়লেই বদলাবে সমাজ”: সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
হাসিবুর রহমান নবীন, বানারীপাড়া (বরিশাল) থেকে:
“আমরা চাই সমাজটাকে পরিবর্তন করতে”-এই উচ্চারণ যেন শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং একটি মানবিক অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ উপলক্ষে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের বায়তুল ভিউ কমিউনিটি সেন্টারে সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী মতবিনিময় সভা।
সভাটির আয়োজন করেন সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মানবদরদী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্রমিক নেতা সামসুল আলম জুলফিকার। সমাজে সৎ, নির্লোভ ও মানবিক মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন যেন এক আলোকবর্তিকা-যার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে মানুষ ও সমাজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও সমাজসংস্কারক এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।
সভা শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণ করা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
এই সভার একটি অনন্য দিক ছিল ফুলের তোড়া নয়, বরং নেতৃবৃৃৃৃন্দ গাছের চারা উপহার দিয়ে প্রধান অতিথিকে বরণ করা-যা পরিবেশবান্ধব সচেতনতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়ায়।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণ অংশ নেন। তারা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেন। বক্তারা উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রত্যেক বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন সংসদ সদস্য, যা তার গণমানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচায়ক হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

বক্তারা আরও বলেন, একটি উন্নত সমাজ গড়তে হলে প্রয়োজন নৈতিকতা, মানবিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ-যা গড়ে তুলতে সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, “আমি কাজ শুরু করবো এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই করবো। তবে নিয়মের ভেতর দিয়ে এগোতে হলে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই; মানুষের সেবা করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আপনারা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সৎভাবে পালনের চেষ্টা করবো। আমার জন্য দোয়া করবেন।”
তিনি আরও বলেন, অতীতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এলাকার সকল সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধান করা হবে। তিনি আয়োজক সামসুল আলম জুলফিকারসহ সকল উপস্থিতিকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এমন জনমুখী উদ্যোগ অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান।
সভা শেষে উপস্থিত সকলেই একটি সুন্দর, মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। যেন এই মিলনমেলা কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়-বরং আলোকিত মানুষের স্বপ্ন বুননের এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়।